
নীলফামারীতে মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে ট্রাক থেকে সার খালাস সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখে শ্রমিকরা। এমন অচলাবস্থায় শনিবার(২৯ জুন) গুদামের সামনের (নীলফামারী- ডোমার) সড়কে জমে ট্রাকের দীর্ঘ সারি। এতে করে ট্রাক চালকদের ভোগান্তি বাড়ার পাশপাশি যান চলাচলে বিঘœ ঘটে সড়কটি দিয়ে।
শ্রমিকদের
অভিযোগ, গুদামের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিবস্তা লোড এবং আনলোড
করার জন্য মজুরী প্রদান করা হয় তিন টাকা করে। দ্রুব্যমূল্য বৃদ্ধি হলেও
মজুরীর কোন পরিবর্তন ঘটেনি। এসব বিষয়ে একাধিকবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কোন ফল হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ
করে দেয় শ্রমিকরা। পরে গুদাম কর্তৃপক্ষের অনুরোধে শনিবার বেলা তিনটা থেকে
আনলোডের কাজ শুরু হয়।
গুদামের লেবার সর্দার সায়েদ আলম বলেন, প্রতি বস্তা
তিন টাকা দরে সারাদিন কাজ করে শ্রমিকদের মাত্র দুই থেকে তিনশত টাকা আয় হয়।
এ আয়ে সংসার চলে না। আমরা বহুদিন ধরে দর বাড়ানোর জন্য তাগিদ দিয়ে আসছি।
কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছে না। বাধ্য হয়ে শনিবার সকলে সকল লেবার কাজ বন্ধ
করে দেয়। পরে গুদাম কতৃপক্ষের অনুরোধে বিকাল তিনটার দিকে আনলোডের কাজ শুরু
করি। গত শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় কাজ বন্ধ ছিল। এতে করে অনেক ট্রাক
আনলোডের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বিপাকে পড়েছে
দূর দূরান্ত থেকে সার নিয়ে আসা ট্রাক চালকরা। যশোরের নওয়াপাড়া এবং নগরবাড়ি
থেকে সার নিয়ে এসে তা খালাসের জন্য অনেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন গত তিনদিন ধরে।
নওয়াপাড়া
থেকে আসা ট্রাক চালক মো. সেলিম কাজী বলেন,সার নিয়ে গত বৃহ¯পতিবার(২৭ জুন)
সন্ধ্যায় নীলফামারীতে এসে পৌঁছি। শুক্রবার(২৮ জুন) ছুটির কারণে কাজ করেনি
লেবার। এপর আজ শনিবার মজুরী বৃদ্ধি দাবি করে সকাল থেকে কাজ বন্ধ রাখে। এমন
সমস্যায় প্রায় তিন দিন ধরে ভেতরে ঢুকতে না পেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা।
সময়মত খালাস না হওয়ায় প্রতিদিন হেলপারসহ দুইজন মানুষের খাওয়া খরচ হচ্ছে এক
হাজার টাকার সমান। এটাকা মালিক দিবেন না, পকেট থেকে খরচ করছি। আসার সঙ্গে
খালাস হলে অতিরিক্ত খরচ হতো না। এছাড়া অন্য ভাড়ার যে আয় হতো এখানে বসে থেকে
সেটিও হারাচ্ছি। বসে থেকে যে টাকা খরচ করছি সেটি মহাজনের কাছে দেনা হয়ে
থাকবে।
তার মতো করে নওয়াপাড়া থেকে সার নিয়ে এসেছেন ট্রাক চালক আরজু
ইসলাম। তিনি গত বৃহ¯পতিবার এসে সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ৩৬ নম্বর ট্রাকের
পেছনে। তিনি বলেন, আমরা নওয়াপাড়া থেকে দেশের বিভিন্ন বাফার গুদামে সার
পরিবহন করি। এর আগেও নীলফামারীতে এসেছি। কিন্তু এবার এসে বিপদে পড়লাম। তিনি
আরও বলেন, মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে গুদামের শ্রমিকরা লোড আনলোড বন্ধ রাখার
কথা জেনেছি। এ কারণে গুদামের ভেতরে আনলোডের অপেক্ষায় অনেক ট্রাক আছে। আমরা
ভেতরে জায়গা না পেয়ে সড়কে অন্তত ৫০টির বেশি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছি, জানি না কখন
খালাস হবে। এভাবে সড়কে দাঁড়িয়ে আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। রাতে পাহাড়া
দিতে গিয়ে ঘুম হচ্ছে না। খাওয়া, শৌচাগারের সমস্যাতো আছেই। একই কথা বলেন অপর
ট্রাকের চালকের সহযোগি রাসেল শেখ, রিফাদুল ইসলামসহ অনেকে।
এবিষয়ে কথা
বলার জন্য লোডিং-আনলোডিং ঠিকাদার আনছার আলী বলেন, লেবাররা প্রতিবস্তা
আনলোডিং দুইটাকা এবং লোডিং এক টাকা করে মজুরী পায়। এই মজুরীতে তারা কাজ করে
আসছে। মজুরী বৃদ্ধির বিষয়ে তারা আমার সঙ্গে কখনো কোন কথা বলেনি। গত
শুক্রবার ছুটি থাকায় কাজ বন্ধ ছিল। আজকে (শনিবার) সকালে হঠাৎ করে শুনি তারা
কাজ বন্ধ করেছে। আমি দূরে থাকায় ফোনে বলেছি কোন কথা থাকলে আমরা বসে সমাধান
করবো, আপনারা কাজ চালিয়ে যান। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে কাজ শুরু করেছে
তারা। এখন কোন সমস্যা নাই, রাত ১২টায় আনলোডের কাজ দ্রুত শেষ হবে।
এবিষয়ে
নীলফামারী বাফার গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাদেমুল ইসলাম বলেন, তারা
(শ্রমিক) কাজ করেন ঠিকাদের অধীনে। ঠিকাদের বাড়ি দূরে হওয়ায় লেবার সর্দার
শ্রমিকদের কাছে কিছু তথ্য গোপন রেখে ফায়দা নেয়। এজন্য লেবার সর্দার এবং
শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ বাধে। বিষয়টি কথা বলে কাজ সচল রাখা হয়েছে।