ইউনূসকে ‘চলে না যাওয়ার’ অনুরোধ

যমুনায় এনসিপির দুই নেতা, ইউনূসকে ‘চলে না যাওয়ার’ অনুরোধ


অনলাইন ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন, এমন একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং এনসিপি- দুই তরফেই দেশকাল নিউজ ডটকম নিশ্চিত হয়েছে যে, এক ঘণ্টার এই বৈঠকে এনসিপি নেতারা ইউনূসকে পদত্যাগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রধান যমুনায় যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তারা প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।

কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেই প্রশ্নে সেই কর্মকর্তা বলেন, “মূলত প্রধান উপদেষ্টা যেন পদত্যাগ না করেন সেই অনুরোধই করতে এসেছিলেন।

“স্যারকে ওরা রিকুয়েস্ট করছে, স্যার যেন না চলে টলে যায়।”

এই সাক্ষাতের বিষয়টি এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন নিশ্চিত করলেও তিনি আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশকাল নিউজ ডটকমকে হোয়াটস অ্যাপ মেসেজে লেখেন, “অনুগ্রহ করে আপনি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে মন্তব্য নেন। এটা আমার জন্য উপকার হয়।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের তিন দিন পর ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়। সেই সরকারে যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

পরে নাহিদ সরকার থেকে পদত্যাগ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করা এনসিপির নেতৃত্ব নেন।

এই সরকার শুরু থেকেই সংস্কারের কথা বলে আসছে, তবে সরকারের দশম মাসে এসে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ভাষা পাল্টে গেছে। নেতারা সরাসরি সরকারকে প্রশ্ন রাখছেন, কী সংস্কার হয়েছে?

বিএনপি একাধিকবার ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব না পেয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই দাবি পূরণ না হলে ডিসেম্বরের পর তারা সরকারকে আর সহযোগিতা করবে না।

নানামুখী আন্দোলনের কারণে রাজধানীতে কর্মদিবসে যে যানজট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যাতে মানুষের বিরক্তি স্পষ্ট। সরকার কোনো কিছুর ব্যবস্থাপনায় মুন্সিয়ানা দেখাতে পারছে না, এমন অভিযোগ উঠছে। দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিও ভালো না, সরকার পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে বেকারত্ব বেড়ে চলেছে।

আবার সেনা সদরে কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের খবর এসেছে সংবাদ মাধ্যমে, যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সেনাপ্রধান নির্বাচিত সরকার দেখতে চেয়েছেন।

নবীনতর পূর্বতন