সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা-ফুলছড়ি আসনের সাবেক এমপি মাহমুদ হাসান রিপন, যিনি বর্তমানে পলাতক, নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়ন ইউনিয়নের ফলিয়া দিগড় গ্রামে অবস্থিত একটি বেসরকারি স্কুলকে ব্যবহার করে এই বৈঠকগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাহমুদ হাসান রিপনের চাচাতো ভাই আকমল হোসেন তার প্রভাব খাটিয়ে 'ফলিয়া দিগড় মাল্টিমিডিয়া একাডেমিক কেজি স্কুল' নামের একটি প্রতিষ্ঠান দখল করে সেটির নাম পরিবর্তন করে 'ফলিয়া দিগড় নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়' রেখেছেন। এই বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম এবং শিক্ষা কার্যক্রমও ঢিলেঢালাভাবে চলছে। কিন্তু রাতের বেলায় এই স্কুলটিই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠকের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বলে একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের কানাঘুষা অনুযায়ী, দিনে স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও রাতে আকমল হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখানে গোপনে জড়ো হন। এরপর গোপন স্থান থেকেই রিপন ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নিয়ে এলাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজখবর নেন এবং নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন।
স্কুলের মূল মালিক রায়হানুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি আকমল হোসেনের জায়গা ভাড়া নিয়ে 'ফলিয়া দিগড় মাল্টিমিডিয়া একাডেমিক কেজি স্কুল' চালু করেন। তিন বছর চলার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে মাহমুদ হাসান রিপনের চাচাতো ভাই আকমল জোর করে প্রতিষ্ঠানটি দখল করেন। রায়হানকে ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক মামলার হুমকি দিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠানে আসতে দেওয়া হয়নি। রায়হান, যিনি আওয়ামী লীগের বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, জীবনের হুমকির মুখে এবং রাজনৈতিক মামলার ভয়ে দেশ ছেড়ে ব্রুনাই চলে যেতে বাধ্য হন।
২০২৪ সালে ব্রুনাই থেকে ফিরে এসে রায়হান তার দখল হয়ে যাওয়া স্কুলটি উদ্ধারের চেষ্টা করলে আকমল তাকে মারধর ও নানাভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ।
জুলাই বিপ্লবের পর সাবেক এমপি মাহমুদ হাসান রিপন পালিয়ে গেলে আকমলও কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে বর্তমানে আকমলরা আবার প্রকাশ্যে এসে ওই স্কুলটিতে নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে। রায়হান আরও জানান, আকমলদের প্রকাশ্য কার্যক্রম এবং সাবেক এমপি রিপনের ভার্চুয়াল বৈঠকের কথা এখন প্রায় সবাই জানেন। গ্রামের লোকজন তাদের এসব 'নিষিদ্ধ' কার্যক্রমে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন এবং তারা বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে আকমল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সাঘাটা থানার ওসি বাদশা আলম জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং "ফ্যাসিস্টদের কোনো কার্যক্রম" নজরে আসা মাত্রই অভিযান চালাবেন।
