অনলাইন ডেস্কঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি একটি শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী প্রধানরা শুধু আর্থিক সুবিধাই পাবেন না, বরং সমাজে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে এবং নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন আয়োজিত সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ঈদগাহ আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের অন্য কোনো ইন্টারেস্ট নেই। আমরা ঢাকায় অভিজাত বাড়ি বানাব না, কানাডায়ও বাড়ি বানাব না।
আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি, কাজ করব। কেউ যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয়, তাহলে তার ক্ষমা নেই। এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। আসেন আমরা আর পেছন ফিরে না তাকাই।
সামনের দিকে তাকিয়ে দেশকে কীভাবে সুন্দর করা যায়, কীভাবে ভালোভাবে কাজ করতে পারি, শিশুদের লেখাপড়া করাতে পারি, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে পারি, ঠিক এই কাজগুলো আমরা সবাই মিলে করি। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ক্ষমতায় আসার মাত্র ২২দিন হয়েছে।
ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। খাল খনন শুরু হয়েছে যেন খরা মৌসুমে সেচ সুবিধা পেতে পারে কৃষক। আজ আবার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হলো। গত ১৫ বছরে অনেক উন্নয়ন কাজ থেকে দেশ বঞ্চিত হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করেছে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিমানবন্দর পুনরায় চালু, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে রহিমানপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কয়েকজন নারীর মাঝে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড হাতে তুলে দেন দেওয়া হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ অন্যান্যরা।
নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পে দেশের ১৪টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৮৮ জন নারী এই সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। একটি বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রতিটি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক জরিপ চালানো হয়।
প্রাথমিক তালিকায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৩৫ জন নারীর নাম আছে। আইডি কার্ডের জটিলতা কাটিয়ে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় স্কোরের ভিত্তিতে ৫৮৮ জন যোগ্য নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত করেছে।
