কাজ ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার, সাঘাটায় থমকে গেছে সাড়ে ১৫কোটি টাকার পলিটেকনিক প্রকল্প

কাজ ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার, সাঘাটায় থমকে গেছে সাড়ে ১৫কোটি টাকার পলিটেকনিক প্রকল্প


গাইবান্ধার সাঘাটা সরকারি পলিটেকনিক স্কুল এন্ড কলেজের বহুল প্রতীক্ষিত একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ দীর্ঘ এক বছর ধরে বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। 

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপতর সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া- ভরতখালী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন সাঘাটা সরকারি পলিটেকনিক স্কুল এন্ড কলেজ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে বিগত ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঢালী কনস্ট্রাকশন । এ ভবন নির্মাণ কাজের ব্যয়বরাদ্দ ধরা হয় ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। 

গত ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজে গড়িমসি করার একপর্যায়ে ২০২৪ সালের প্রথম দিকে নির্মাণ কাজের মাঝ পথে ফেলে রেখে হঠাৎ করেই কাজ ফেল রেখে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে দুটি বছর, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভবন নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার কারণে খোলা মেঝেতে অফিসের কাগজপত্র বই-খাতাগুলো অরক্ষিত অবস্থায় এলোমোলো ভাবে পড়ে আছে, শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে হতাশা আর উদাসিনতা। 

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী আশিশ কুমার রায় এ বিষয়ে বলেন, “আগের ঠিকাদার ৬৭ ভাগ করার পর, বাকী কাজ ফেলে চলে গেছেন, কাজে আর ফিরে না আসায় নতুন ঠিকাদারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার জারি হলে অবিলম্বে কাজ শুরু হবে।” এর চেয়ে বেশি তথ্য তার জানা নেই বলে তিনি জানান। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে ভবনের চারপাশে এখনো পরিত্যক্ত রড, বালু ও ভাঙা কাঠের স্তূপ যা প্রকল্পের স্থবিরতারই প্রতীক।

শিক্ষার্থীরা জানান, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। কখনো কখনো খোলা জায়গায় কিংবা অস্থায়ী কক্ষে পাঠদান চালাতে হচ্ছে, যা পড়াশোনার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“নতুন ভবনের আশায় আমরা ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু বছর যায়, ভবন আসে না। আমাদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন শঙ্কায় আছি।” 

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি অল্প দিন আগে এখানে যোগদান করেছি। আমি যোগদানের আগে থেকেই ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ দেখেছি। ভবনের কারণেই শিক্ষার অচল অবস্থা কাটছে না। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় নয় এটি একটি পুরো প্রজন্মের কারিগরি শিক্ষার স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

নবীনতর পূর্বতন